জাতীয় ডেস্ক
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৭ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। একই দিন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনও রাজধানীর একটি কেন্দ্রে ভোট দেন এবং নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
ঢাকা-১৭ আসনের আদমজী কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন ও ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সেনাপ্রধান। তিনি জানান, নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর এ দিনটি এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সকালে দেশের বিভিন্ন স্থানের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।
নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারছেন। তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে গণমাধ্যম নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করায় ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে, যা অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।
এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে নাগরিকদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন।
জাতীয় নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোটারদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ ও প্রস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। নির্বাচনকালীন সহায়ক শক্তি হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী সাধারণত বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে থাকে।
নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভোটগ্রহণের দিন সকালে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় পরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ভোটগ্রহণের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা রাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভোট প্রদান এবং ভোটারদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার বক্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নাগরিক সম্পৃক্ততার গুরুত্বকে তুলে ধরে। দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।


