ভারত বড় অঙ্কের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে রাশিয়া থেকে

ভারত বড় অঙ্কের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে রাশিয়া থেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে ১৬৮টি দূরপাল্লার এস-৪০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে, যা দেশটির সামরিক ক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা বিভিন্ন সমরাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে, যার মধ্যে কমব্যাট ক্ষেপণাস্ত্র, মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট, রাফাল এবং এয়ার-শিপ-বেজড হাই অল্টিচ্যুড স্যুডো স্যাটেলাইট রয়েছে। এই সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

বিবৃতিতে সরাসরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখ না থাকলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছেন যে ‘কমব্যাট ক্ষেপণাস্ত্র’ বলতে মূলত এস-৪০০ এবং স্বল্প-পাল্লার পান্তশির ক্ষেপণাস্ত্র বোঝানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে মোট ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের জন্য আবেদন করেছে, যার মধ্যে ১২০টি পান্তশির এবং ১৬৮টি এস-৪০০।

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত এবং অত্যন্ত কার্যকর দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর পারফরম্যান্স এবং সঠিকতার কারণে এটি সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে ভারতের হাতে মোট চারটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং শিগগিরই আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ক্রয় ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে, দক্ষিণ এশিয়ার জ্যোরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি প্রতিপক্ষ দেশগুলির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এছাড়া, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারবে।

এর আগে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে এস-৪০০ ক্রয়ের বিষয়ে বহু পর্যায়ে আলোচনা ও চুক্তি হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের জাতীয় সুরক্ষা নীতি এবং দীর্ঘপাল্লার প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এস-৪০০’র সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত তার আকাশসীমা রক্ষা এবং আঞ্চলিক সামরিক আধিপত্য আরও দৃঢ় করতে সক্ষম হবে।

নতুন ক্রয়কৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বিতরণ এবং স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভারতের বিমান বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা শক্তি আরও কার্যকরভাবে কৌশলগত ভূমিকা পালন করতে পারবে। এছাড়া, এই পদক্ষেপ ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থানে নিয়ে আসবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ