জাতীয় ডেস্ক
২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি, যেখানে বিপরীতে ‘না’ ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত গেজেট শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে প্রকাশিত হয়। গেজেটে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি এবং বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি ভোট।
গণভোট আয়োজনের পেছনের প্রেক্ষাপট হিসেবে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়। এই সনদে বর্ণিত প্রস্তাবনার বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত ও সম্মতি যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর ১৬ ধারার (৩) উপ-ধারা অনুযায়ী এই ফলাফল সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত করে প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি গেজেটের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের ফলে সংবিধান সংস্কারের বৈধতা নিশ্চিত হয়েছে এবং এ নিয়ে সকল প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
সংবিধান সংস্কারের জন্য ভোট প্রদানের এই গণভোটকে বাংলাদেশে সাধারণ জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটের ফলাফলের পর বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা মোট ভোটের প্রায় ৬৯ শতাংশ, যা প্রস্তাবিত সংস্কারের ব্যাপক সমর্থনকে প্রতিফলিত করছে।
এদিকে ভোটার অংশগ্রহণের হারও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মোট ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯৯ লাখ ভোট বাতিল হলেও প্রায় ৭ কোটি ভোট বৈধভাবে গণনা করা হয়েছে, যা দেশের ভোটিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে একটি পরিসংখ্যানগত ইঙ্গিত প্রদান করে।
এই ফলাফল প্রকাশের পর সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবিত বিধিগুলো সরকারের নিকট কার্যকর হওয়া নির্ধারিত হবে। এর মধ্যে সংবিধানের বিভিন্ন ধারার সংশোধনী, ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশোধিত ধারাগুলো কার্যকর হলে এটি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সরকারি গেজেটের মাধ্যমে গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ যথাযথভাবে সংশোধিত বিধিগুলো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এই সংবিধান সংস্কার দেশের শাসনব্যবস্থা, আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


