খেলাধূলা ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটে বড় সংগ্রহের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। টুর্নামেন্টে এখনো কোনো দল ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে না পারলেও একাধিকবার দুইশোর বেশি রান হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় আয়ারল্যান্ড এবারের আসরের সর্বোচ্চ ২৩৫ রান সংগ্রহ করে ওমানকে ৯৬ রানের ব্যবধানে পরাজিত করেছে।
ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান করে। দলটির পক্ষে অধিনায়ক লরকান টাকার অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংস খেলেন। জবাবে ওমান ১৮ ওভারে ১৩৯ রানে অলআউট হয়। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে জশ লিটল কার্যকর বোলিং করেন।
ইনিংসের শুরুটা আয়ারল্যান্ডের জন্য সহজ ছিল না। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে দলটি তোলে ৪৭ রান। এরপর ৬৪ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর চাপে পড়ে যায় দলটি। এ অবস্থায় লরকান টাকার ও গ্যারেথ ডিলানির জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ডিলানি ৩০ বলে ৫৬ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৩টি চার ও ৪টি ছয়। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়।
ডিলানি বিদায় নেওয়ার পর জর্জ ডকরেল ক্রিজে এসে দ্রুত রান তোলেন। শেষ পাঁচ ওভারে আয়ারল্যান্ড তোলে ৯৩ রান, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ডেথ ওভারে অন্যতম উচ্চ সংগ্রহ। টাকার ও ডকরেলের মধ্যে ১৯ বলে ৭০ রানের জুটি গড়ে ওঠে। ডকরেল মাত্র ৯ বলে ৫টি ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
অধিনায়ক টাকার ৫১ বলে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তিনি সেঞ্চুরি থেকে ছয় রান দূরে থামলেও বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে এটি অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলীয় সংগ্রহ ২৩৫ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের সর্বোচ্চ এবং চলতি আসরেরও সর্বোচ্চ দলীয় রান।
২৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওমান শুরুতে ইতিবাচক ব্যাটিং করে। ১০.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা ১০০ রান তোলে এবং ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়। আমির কালিম ও হাম্মাদ মির্জা চতুর্থ উইকেটে ৪৯ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন। কালিম ৫০ রান করেন এবং হাম্মাদ করেন ৪৬ রান। এছাড়া সুফিয়ান মেহমুদ ১০ রান করেন।
তবে মধ্য ও শেষ ভাগে আয়ারল্যান্ডের বোলাররা ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। জশ লিটলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওমান দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে। একপর্যায়ে দলটি ৪২ রানের ব্যবধানে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে ফেলে। ফলে সম্ভাবনাময় অবস্থান থেকে ম্যাচে টিকে থাকতে পারেনি তারা।
ওমানের হয়ে শাকিল আহমেদ সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। তবে বড় সংগ্রহ রুখতে বোলারদের ওপর চাপ ছিল স্পষ্ট। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের এই জয় তাদের নেট রানরেট ও পয়েন্টের হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
চলতি বিশ্বকাপে বড় স্কোরের ধারাবাহিকতা ব্যাটিং-সহায়ক কন্ডিশনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে দলগুলোর আগ্রাসী কৌশল ও পাওয়ার হিটিংয়ের প্রবণতাও স্পষ্ট হচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের এই জয় শুধু ব্যবধানের দিক থেকে নয়, বরং টুর্নামেন্টে তাদের আত্মবিশ্বাস ও অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


