জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, বলে মন্তব্য করেছেন কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ও ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি উইলিয়ামানা আকুফো আদো। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মিশন প্রধান বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কিছু বিচ্ছিন্ন উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মোট অভিজ্ঞতা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ছিল। তিনি সমস্ত অংশীদারকে নির্বাচনের পরবর্তী সময়কালে শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক আইনি মাধ্যমে যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উৎসাহিত করেছেন।
উইলিয়ামানা আকুফো আদো বলেন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশের জনগণ, নির্বাচন কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত সরকারের প্রশংসা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে কার্যকর এবং নিরপেক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনী চক্রকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়ন পরিচালনা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এতে ভালো অনুশীলন চিহ্নিত করা এবং সব পর্যবেক্ষকের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মান উন্নয়ন ঘটাতে সাহায্য হবে।
কমনওয়েলথ মিশনের প্রধান আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য উদার ও ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অভিজ্ঞতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনী সংস্কৃতির ধারাবাহিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও ফলাফল সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন এবং সাধারণভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিয়মমাফিক সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এই বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনের সময় জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন এবং রাজনৈতিক অংশীদাররা সংলাপ ও আইন অনুসরণে আগ্রহী ছিল। এ ধরনের প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনের মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
মিশন প্রধানের পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় উন্নয়নের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজমান ছিল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের সুসংহত মূল্যায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করবে।


