মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

জাতীয় ডেস্ক

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনমূলে ড. শেখ আব্দুর রশীদকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে তার ওই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। এতে আরও বলা হয়, আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হবে।

ড. শেখ আব্দুর রশীদ বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অবসরে যান। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদটি সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন তদারক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রশাসনিক নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে এই পদে নিয়োগ বা পরিবর্তন সাধারণত সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের প্রাক্কালে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পদে রদবদল বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক নয়। নতুন সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আনা হয়ে থাকে।

বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে কে দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই এ পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।

প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ধারাবাহিক কার্যক্রম বজায় রাখতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্ব দ্রুত নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করে থাকে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে এই পরিবর্তন প্রশাসনিক কর্মকাঠামোয় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে ড. শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিলের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। কেবল জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ