রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রটোকল অনুসরণ করে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা South Asian Association for Regional Cooperation (সার্ক)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। শপথ অনুষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ের বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে বলে দলটির নেতারা মনে করছেন।
সার্ক ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক জোট, যার সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ায় দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ ও সামাজিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে সংস্থাটি কাজ করে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সার্ক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে স্থবির, তবু আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবনের প্রশ্নে বিভিন্ন সময় গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে প্রাসঙ্গিক বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নতুন সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এ ধরনের অনুষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তবে কোন কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাড়া অনুযায়ী অতিথি তালিকা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, প্রটোকল ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। বিদেশি অতিথিদের আগমন ও অবস্থান সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়েও পৃথক সমন্বয় প্রক্রিয়া থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিএনপির এ উদ্যোগকে কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


