অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের স্বর্ণবাজারে পুনরায় উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের বাজারে স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। নতুন দাম সোমবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং আগামী রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত একই রকম থাকবে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে এই সমন্বয় আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ এবং সনাতন পদ্ধতিতে বিক্রির জন্য নতুন দাম প্রকাশ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরিতে ২,৬১,০৪০ টাকা, ২১ ক্যারেট ২,৪৯,১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২,১৩,৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১,৭৪,৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরি ভিন্ন হতে পারে।
অপরদিকে, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পরও রুপার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি ভরিতে ৬,৩৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬,০৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩,৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর বাড়া এবং স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি স্বল্পমেয়াদি মূল্যস্ফীতি হিসেবে প্রতিফলিত হতে পারে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।
দেশের স্বর্ণবাজারে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন ব্যবসায়ীদের বিক্রয়নীতি ও ক্রেতাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, বিবাহ ও উৎসবকালীন গহনা ক্রয়ের সময় ক্রেতাদের ব্যয় এবং বাজার চাহিদা উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।


