জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সৌধ প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সৌধের প্রধান ফটকে এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ টাঙানো দেখা যায়।
সৌধ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ বাক্য পাঠের পর নির্ধারিত সময়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ উপলক্ষে নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দর্শনার্থীদের প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন একটি প্রচলিত রীতি। শপথ অনুষ্ঠানের পর সুবিধাজনক সময়ে তারা সৌধে এসে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও যে দিন শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠিত হবে, সে দিন পর্যন্ত জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি জাতীয় স্মারক। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের সফরের সময়ও এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। স্বাধীনতা ও জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে সৌধটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গমনকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সাধারণত শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই বা কয়েক দিনের মধ্যে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
সৌধ এলাকায় প্রবেশ বন্ধ থাকায় দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষ সাময়িকভাবে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকবেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা সৌধের নোটিশ বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূর্বেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে এ ধরনের সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে থাকে।


