সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ

সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ

জাতীয় ডেস্ক

আগামী মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজনে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা সমমানের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান, কোন কোন দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সার্কের সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে এই জোট প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্থাটি কাজ করে আসছে। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সার্ক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ আঞ্চলিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তার উপস্থিতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেন। আলোচনায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির নাম এসেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা এখনো আসেনি।

অন্যান্য সার্ক দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজধানীতে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। নিরাপত্তা, প্রটোকল ও কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

মঙ্গলবারের কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করবে। বিকেল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভার শপথ সাধারণত বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হলেও এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদকেন্দ্রিক কার্যক্রমের গুরুত্ব এবং বৃহৎ পরিসরে বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতির বিষয় বিবেচনায় এ স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহলে এই শপথ অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নতুন সরকারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের সূচনা ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে পারস্পরিক আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবে। সার্ক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য উপস্থিতি এ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক মাত্রা যুক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ