মিয়ানমার থেকে পূর্ব তিমুরের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কারের নির্দেশ

মিয়ানমার থেকে পূর্ব তিমুরের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কারের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার পূর্ব তিমুরের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। রবিবার জান্তা সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পূর্ব তিমুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জান্তা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, পূর্ব তিমুরের ঘোষিত পদক্ষেপে তারা ‘গভীর হতাশা’ প্রকাশ করছে। এর আগে চলতি মাসে অধিকারভিত্তিক সংস্থা Chin Human Rights Organization জানায়, পূর্ব তিমুর মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্তে একজন জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। অভিযোগটি সার্বজনীন এখতিয়ার নীতির আওতায় দায়ের করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একটি দেশের আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করতে পারে, অপরাধটি যে দেশেই সংঘটিত হোক না কেন।

উল্লেখিত মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও মামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি মিয়ানমারের সামরিক শাসনামলে সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, নির্বিচার আটক এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তুলেছে। তবে মিয়ানমারের সামরিক সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

পূর্ব তিমুরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, কোনো দেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে বহিষ্কার করা হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুতর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণত এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা আইনি বিরোধের জেরে নেওয়া হয়ে থাকে এবং এর ফলে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে যেতে পারে।

সার্বজনীন এখতিয়ার নীতি আন্তর্জাতিক আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যার মাধ্যমে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়েও করা সম্ভব। পূর্ব তিমুর যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের মামলা পরিচালনা করে থাকে, তবে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিয়ানমারের সামরিক শাসনের ওপর নতুন আইনি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বহিষ্কার সিদ্ধান্ত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রতিফলন ঘটাতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার সংকট ইতোমধ্যে সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়া ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।

বর্তমানে বহিষ্কারের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এক সপ্তাহ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক দেশত্যাগ না করলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ