জেনেভায় দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনায় যোগ দিতে তেহরান ত্যাগ করলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জেনেভায় দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনায় যোগ দিতে তেহরান ত্যাগ করলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দ্বিতীয় দফার নবায়নকৃত পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে রোববার গভীর রাতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার উদ্দেশে তেহরান ত্যাগ করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসন্ন বৈঠকটি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি কূটনৈতিক ও কারিগরি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জেনেভায় অবস্থানকালে তিনি দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা পরিচালনার পাশাপাশি একাধিক কূটনৈতিক পরামর্শ বৈঠকে অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যুক্ত থাকবেন, যাতে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং পারস্পরিক আস্থাবৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পরোক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় ওমান অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। ২০১৫ সালে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীকালে ইরান ধাপে ধাপে কিছু পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা শিথিল করে।

বর্তমান আলোচনার লক্ষ্য হলো পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত অচলাবস্থা নিরসন এবং সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খোঁজা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গেও পৃথক পরামর্শ হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আলোচনার নির্দিষ্ট এজেন্ডা বা সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, পারমাণবিক কর্মসূচির স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন, এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।

জেনেভায় এই দ্বিতীয় দফার আলোচনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি থাকবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ