নবনির্বাচিত সরকার শপথের পর সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

নবনির্বাচিত সরকার শপথের পর সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

 

বাংলাদেশ ডেস্ক

নবনির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণের পর সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, পুলিশ বাহিনী পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ না করা পর্যন্ত সহায়তামূলক ভূমিকায় সেনাবাহিনীর একটি অংশ মাঠে মোতায়েন থাকবে।

গতকাল বেলা ১১টায় আয়োজিত ‘সিএএস দরবার’-এ সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রায় ১৫ মিনিটের এ অনুষ্ঠানে দেশে কর্মরত সদস্যদের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। সাম্প্রতিক নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সেনাবাহিনীর দায়িত্বপালন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে তিনি দিকনির্দেশনা দেন।

সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে উদ্ভূত সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী যে দায়িত্ব পালন করেছে, তা ছিল সংবিধানসম্মত এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তামূলক। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাসদস্যরা পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও সংযম বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ধরনের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অটুট রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সব সময় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব পুলিশ ও অন্যান্য বেসামরিক বাহিনীর ওপর ন্যস্ত—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে এবং পুলিশ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে গেলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে প্রত্যাবর্তন করবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতীতে বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীকে সহায়তামূলক দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণত বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য এ ধরনের মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও কোথাও কোথাও উত্তেজনা বা সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ছাড়া টহল ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত হয়। এ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে সেনাবাহিনীর মাঠ পর্যায়ের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায়। সেনাপ্রধানের বক্তব্য সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে সেনাপ্রধান সেনাসদস্যদের ধৈর্য, সংযম ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ও সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা করাই সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের পেশাদার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বেসামরিক প্রশাসনের সক্ষমতা জোরদারের বিষয়টি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করলে সেনাবাহিনীর অবশিষ্ট সদস্যরাও ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরে যাবে। সেনাপ্রধানের ঘোষণায় এ বিষয়ে একটি নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ