খেলাধূলা ডেস্ক
কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পরাজয়ের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। একটি টেলিভিশন আলোচনায় তিনি বলেন, চলতি আসরের বাকি ম্যাচগুলোতে সিনিয়র তিন ক্রিকেটার—বাবর আজম, শাহীন আফ্রিদি ও শাদাব খান—কে একাদশের বাইরে রেখে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া উচিত। তার মতে, বড় ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না এলে দলগত স্বার্থে বিকল্প ভাবনা প্রয়োজন।
ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে প্রতিপক্ষের করা ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই চাপে পড়ে। অধিনায়ক বাবর আজম মাত্র ৭ বলে ৫ রান করে আউট হন। সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষ ব্যাটারদের দ্রুত বিদায় নিলে মধ্যক্রমের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, যা রান তাড়ার ক্ষেত্রে দলকে পিছিয়ে দেয়।
বল হাতে শাহীন আফ্রিদিও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তিনি ২ ওভারে ৩১ রান দেন, যার প্রতিটি ওভারেই উল্লেখযোগ্য রান আসে। ম্যাচের শেষ দিকে ভারতের ইনিংস দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে এই অতিরিক্ত রান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে স্বল্প ওভারের বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে ম্যাচের গতিপথ দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
অলরাউন্ডার শাদাব খানও ব্যাট ও বল—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। তিনি এক ওভারে ১৭ রান দেন এবং ব্যাট হাতে ১৪ রান করেন ধীরগতিতে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অলরাউন্ডারদের কাছ থেকে দ্রুত রান ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং প্রত্যাশিত থাকে, যা ম্যাচের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
টেলিভিশন আলোচনায় আফ্রিদি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একই খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হলেও বড় ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে বিকল্প কৌশল বিবেচনা করা উচিত। তার মতে, দলে থাকা তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দিলে তারা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য দল শক্ত ভিত পাবে।
পাকিস্তান দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা চলছে। দলটি প্রতিভাবান ক্রিকেটারে সমৃদ্ধ হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারায় সমর্থক ও সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে গ্রুপপর্বে পয়েন্ট হারালে সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, দলে পরিবর্তন আনা বা একই একাদশ ধরে রাখা—উভয় সিদ্ধান্তেরই ঝুঁকি রয়েছে। একদিকে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ, অন্যদিকে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি দলে নতুন উদ্দীপনা ও প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে।
পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা এবং টুর্নামেন্টের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে দল কী ধরনের পরিবর্তন আনে, সেটিই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


