ত্রয়োদশ সংসদে ৭৯ শতাংশ কোটিপতি সংসদ সদস্য

ত্রয়োদশ সংসদে ৭৯ শতাংশ কোটিপতি সংসদ সদস্য

জাতীয় ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ৭৯.৪৬ শতাংশ সংসদ সদস্য কোটিপতি বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে। সংস্থার তথ্যানুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৩৬ জন কোটিপতি এবং ১৩ জন শতকোটিপতি। এই তথ্য আজ সোমবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফকনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সার্বিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ইফতেখারুজ্জামান।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সদস্যেরই ব্যক্তিগত দায় বা ঋণ রয়েছে। সংসদ সদস্যদের মোট দায়ের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা বিগত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগতভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ, আর জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এবারের সংসদে ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীরাই সংখ্যায় সেরা, প্রায় ৬০ শতাংশ। যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ব্যবসায়ীদের সংখ্যা পাঁচ শতাংশ কমেছে, নবম সংসদের তুলনায় তা তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংবেদনশীল পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে, বিশেষত প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণে কিছু অনিয়ম এবং নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে যথাযথ সহযোগিতা করেনি। প্রার্থীরা নির্ধারিত প্রচারণা ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করেছে। শীর্ষ দুই দল বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যয়ের লঙ্ঘনের মাত্রা সর্বাধিক—অনলাইন ও অফলাইন প্রচারণায় প্রায় ১৯ শতাংশ থেকে ৩২৮ শতাংশ পর্যন্ত।

সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২.৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের অর্ধেক এবং সর্বনিম্ন। এবারের সংসদ অপেক্ষাকৃত তরুণ; ২০৯ জন বা ৭০ শতাংশ প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন। সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধী দলের নেতার মধ্যে দুজন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। সংসদের ৮৪.৮৩ শতাংশ সদস্য স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, যেখানে স্নাতকোত্তর সর্বাধিক ৪৪.৮৩ শতাংশ। শিক্ষক পেশার প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে পেশাগত রাজনীতিবিদদের সংখ্যা কমেছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৯ শতাংশ প্রার্থী নির্বাচনি আচরণবিধির ৫৮টি বিষয়ে অন্তত একটি লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা, এবং ভোটারদের জন্য নিরপেক্ষ ও নিরাপদ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের সার্বিক প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হলেও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা আচরণবিধি মান্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। পুরাতন রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত রয়েছে, যা সহিংসতা, আত্মাদলীয় কোন্দল ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে। অর্থ, ধর্ম এবং সামাজিক শক্তি প্রয়োগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

পর্যবেক্ষণে টিআইবি বলেছে, নির্বাচন কমিশনের উপর আরোপিত ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার ও অন্যান্য অংশীজনের সক্রিয় প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সংঘাত এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সীমাবদ্ধ হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ