জাতীয় ডেস্ক
গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর বাংলাদেশ নতুন সরকার ও সংসদ পেতে যাচ্ছে। নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভার গঠনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট নির্বাচন কমিশন শুক্রবার রাতে প্রকাশ করেছে। এতে করে সংসদে নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর রাস্তা সুগম হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ গ্রহণের পর নবনির্বাচিত সদস্যরা সংসদ ভবনের নবম তলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। নির্বাচিত সংসদীয় দলীয় নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানানো হবে।
শপথ গ্রহণের কার্যক্রমে মঙ্গলবার বিকেল চারটায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সংসদ ভবন এবং এর পারিপার্শ্বিক এলাকায় আজ সোমবার সকাল থেকে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি দেখা গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধান প্রবেশ গেট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অন্যান্য প্রবেশপথে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা।
সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য কক্ষগুলো সাজানো হচ্ছে। দক্ষিণ প্লাজা ও শপথ গ্রহণ কক্ষে প্রস্তুতির সঙ্গে ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও সম্পন্ন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংসদ ভবনে যে অংশগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছিল, সেগুলো মেরামতের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের সব রকমের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।”
নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে অবস্থান করছে। বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংসদ ভবনের পারিপার্শ্বিক এলাকা স্বাভাবিক রূপে রয়েছে। প্রধান সড়ক ও আশপাশের দোকানপাট আগের মতো খোলা এবং যানবাহনের চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে, নতুন সংসদ কার্যক্রম এবং মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য জাতীয় সংসদ ভবন প্রস্তুত রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।


