বাংলাদেশ ডেস্ক
মায়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক ৭০ জন বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
জেলেদের দেশে ফেরত আনার জন্য টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন ট্রানজিট জেটিঘাট ব্যবহৃত হবে। বিজিবি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে মায়ানমারে আটক থাকা সব বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। নাফ নদ ও সাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে আটক করা জেলেদের মুক্ত করতে বিজিবি আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং তাদের নিরাপদভাবে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত পাঁচ মাসে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন উপকূলীয় জলসীমা থেকে অন্তত ৪২০ জন জেলেকে আরাকান আর্মি আটক করেছে। এই জেলেরা বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরা, নৌকা চলাচল বা অন্যান্য উপকূলীয় কর্মকাণ্ডের সময় মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে পড়েছে।
জেলেদের স্বজনরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা হুমায়রা বেগম বলেন, ‘‘আমার স্বামীকে অপহরণের পর পাঁচ মাস ধরে জানি না তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। দুই সন্তান নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আজ তিনি ফিরবেন—এই আশায় বসে আছি।’’
জেলেদের দেশে ফেরত আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টেকনাফ জেটিঘাটে অনেক পরিবারের সদস্য সকাল থেকেই উপস্থিত হয়ে প্রিয়জনদের একনজর দেখতে ভিড় জমিয়েছেন। শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মায়ানমারে আটক নুরুল আলমের ভাই ছৈয়দ আলম বলেন, ‘‘আজ জেলেরা ফেরত আসবেন শুনে এখানে এসেছি। খুব খুশি লাগছে, তবে তালিকায় আমার ভাইয়ের নাম আছে কি না জানি না।’’
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মায়ানমারে আটক বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপদভাবে দেশে ফেরত আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বন্দিদের ফেরত আনা সাধারণত নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নথি যাচাই শেষে সম্পন্ন করা হয়। বিষয়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় পরিবারগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও হতাশা দূর করতে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিজিবি মায়ানমারের সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের উদ্ধার এবং ফেরত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালাচ্ছে। এটি উপকূলীয় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য অপহরণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মায়ানমারে আটক থাকার সময় জেলেদের অনেকেই বিভিন্ন প্রকার শারীরিক ও মানসিক চাপে ছিলেন। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করেছে। ফেরত আসা জেলেদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের মাধ্যমে স্থানীয় সমাজে মানসিক স্থিতিশীলতা এবং সামঞ্জস্য ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলেদের ফেরত কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবির যৌথ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও দৃঢ়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বও প্রতিফলিত হচ্ছে।


