বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনকে স্বাগত বিএনপির, শপথ বিষয়ে সংবিধানগত প্রশ্ন

বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনকে স্বাগত বিএনপির, শপথ বিষয়ে সংবিধানগত প্রশ্ন

 

রাজনীতি ডেস্ক

বিরোধী দলের প্রস্তাবিত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ বিষয়ে সংবিধানগত এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের নেতারা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক ম্যান্ডেট নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরিচালিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সে অনুযায়ী আগামীকাল সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি জানান।

তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া হয়নি। যদি সংবিধানে সংশোধনের মাধ্যমে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান যুক্ত করা হয় এবং কে শপথ পাঠ করাবেন তা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সাধারণত স্পিকার বা রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি এ শপথ পাঠ করান। তবে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন হতে পারে। সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত যে কোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। যদিও এ বিষয়ে বিএনপি নেতারা বিস্তারিত আইনি ব্যাখ্যা দেননি, তাদের বক্তব্যে প্রক্রিয়াগত বৈধতার প্রশ্নটি গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান কাঠামোর সংস্কার ও কার্যকর নীতি গ্রহণের মাধ্যমে এসব খাতকে পুনরায় কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনা দরকার।

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টন বা কে কোন পদে থাকবেন—এ বিষয়ে তিনি এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানেন না। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ধারণাটি মূলত সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের বিকল্প নীতিগত অবস্থান ও প্রস্তুতি তুলে ধরার একটি কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় বিকল্প প্রস্তাব ও সমালোচনামূলক নজরদারি জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ নীতি-আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের শপথ, সম্ভাব্য সাংবিধানিক সংশোধন এবং বিরোধী দলের সাংগঠনিক পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও ব্যাখ্যার ওপর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ