রাজনীতি ডেস্ক
নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম–এর বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় অবস্থিত ওই বাসায় তিনি প্রবেশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বৈঠকে অংশ নেন।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময়ের অংশ হিসেবেই এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান প্রথমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান–এর বাসায় এবং পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম–এর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ধারাবাহিক এসব সাক্ষাৎকে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন-পরবর্তী সময় সাধারণত দলগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিসহ বিভিন্ন দল পারস্পরিক অবস্থান বিনিময়, রাজনৈতিক সমীকরণ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে আলোচনা করে থাকে। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এ ধরনের সাক্ষাৎ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে এবং দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করতে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক যোগাযোগ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে বৈঠকের নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময় রাজনৈতিক সমীকরণ পুনর্গঠন, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং সংসদ ও রাজপথের কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও এ সাক্ষাৎকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবু এর রাজনৈতিক তাৎপর্য ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দেওয়ায় বৈঠকের নির্দিষ্ট ফলাফল সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারাবাহিক এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক যোগাযোগের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


