বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা, ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্বে তারেক রহমান

বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা, ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্বে তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ওই আসন শূন্য ঘোষণা করেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, নির্বাচনি এলাকা ৪১ বগুড়া-৬ এবং ১৯০ ঢাকা-১৭ আসন থেকে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রার্থী তারেক রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের (২)(ক) দফা অনুসারে একটি আসন রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা জানিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশনের নিকট স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই তারিখ থেকে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের (২)(ক) দফা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একাধিক আসন থেকে নির্বাচিত হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি আসন বেছে নিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানালে অপর আসনটি শূন্য বলে গণ্য হয় এবং সেখানে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশন পরবর্তী সময়ে তফসিল ঘোষণা করবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭—এই দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং উভয় আসনেই বিজয়ী হন। একই নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২১২টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলে দলটি সরকার গঠনের সাংবিধানিক যোগ্যতা অর্জন করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৭ আসনটি রাজধানীকেন্দ্রিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেটিকে প্রতিনিধিত্বের জন্য বেছে নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে দল বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বগুড়া-৬ আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হয়েছে। সংবিধান ও প্রযোজ্য আইনের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপনির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। একই দিনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির মনোনীত সংসদীয় দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একাধিক আসন থেকে প্রার্থিতা, নির্বাচিত হওয়ার পর একটি আসন রেখে অন্যটি ছেড়ে দেওয়া এবং শূন্য আসনে উপনির্বাচন আয়োজন—এসব প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সেই সাংবিধানিক বিধানই কার্যকর হলো।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ