ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা

ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শেষে সংসদীয় দলের সভা আহ্বান করেছে। মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের পর বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরপরই সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হবে। বৈঠকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত ব্যক্তিই হবেন সরকারপ্রধান। তিনি আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের প্রস্তাব উত্থাপিত হবে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনপ্রাপ্ত দলের নেতা রাষ্ট্রপতির নিকট সরকার গঠনের দাবি জানান এবং রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। সে প্রেক্ষাপটে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধাপ। সাধারণত শপথ গ্রহণের পরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সংসদীয় দলের বৈঠক করে নেতা নির্বাচন করে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে একটি গণভোটও আয়োজন করা হয়। নির্বাচন শেষে পরদিন শুক্রবার রাতে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফলের ভিত্তিতে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। দুটি আসনে বিভিন্ন কারণে গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে। গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং শপথ গ্রহণের পথ সুগম হয়।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গেজেট প্রকাশিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ নিতে হয়; অন্যথায় তাঁদের আসন শূন্য ঘোষণা হতে পারে। শপথের মাধ্যমে সদস্যরা সংবিধান রক্ষা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার অঙ্গীকার করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়। মন্ত্রিসভা গঠন, সংসদের অধিবেশন আহ্বান এবং স্পিকার নির্বাচনসহ পরবর্তী সাংবিধানিক কার্যক্রম এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক অংশ। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদে আসন বিন্যাস, বিরোধী দলের অবস্থান এবং আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে। এর মধ্যেই সংসদীয় দলের সভা ও নেতা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

সংসদীয় দলের বৈঠকে নির্বাচিত সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও সমর্থনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ