রাজনীতি ডেস্ক
কক্সবাজার–১ আসনের বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রশ্নে জাতীয় সংসদ ও সংবিধানের বিধানই চূড়ান্ত বিবেচ্য। তিনি জানান, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের বিধান নেই এবং জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত না হলে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ সচিবালয়ে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিনি সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। সংবিধানে এখনো এটাকে ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটি আগে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, কোনো সাংবিধানিক কাঠামো কার্যকর করতে হলে তা সংবিধানের সংশোধনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য কারা হবেন, তাঁদের শপথ কে পড়াবেন এবং কীভাবে পরিষদ পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বর্তমানে সংবিধানে এ বিষয়ে কোনো পৃথক ফরম বা কাঠামো নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে শপথের নির্দিষ্ট ফরম্যাট রয়েছে, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে কোনো স্বতন্ত্র কাঠামোর উল্লেখ নেই।
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদই একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে বিল উত্থাপন এবং নির্ধারিত সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে তা পাস হওয়া আবশ্যক। বিশেষ পরিস্থিতিতে গণভোটের বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব এলে তা সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরেই বিবেচিত হতে হবে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গ আলোচনায় আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের অংশ থেকে সংবিধানের কিছু ধারা পুনর্বিবেচনার দাবি উত্থাপিত হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তিনি দলীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত ও অবস্থান অবহিত করছেন। দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের তিনি সাংবিধানিক কাঠামো মেনে চলার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সাংবিধানিক বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রক্রিয়াটি আইনগত ও রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। ফলে এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণে জাতীয় সংসদের ভূমিকা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই প্রধান বিবেচ্য হয়ে থাকবে।


