জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল ঢাকায় পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান হাইকমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাকিস্তানের মন্ত্রী নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন এবং তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
বাংলাদেশে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আগমন কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠান একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নির্বাচনের পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশটির অবকাঠামো উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং কৌশলগত প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মন্ত্রী হিসেবে আহসান ইকবাল পাকিস্তানের উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তার এই সফরকে দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সফর এ সম্পর্কের ধারাবাহিকতারই অংশ।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালীন সময়ে আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন ও স্বীকৃতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার একটি সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হয়ে থাকে।
সফর শেষে পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রীর নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতি হবে কি না, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।


