বাংলাদেশ ডেস্ক
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৬ সালের হালনাগাদ বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকের (Henley Passport Index 2026) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান গত বছরের ৯৫তম থেকে দুই ধাপ এগিয়ে ৯৩তম অবস্থানে পৌঁছেছে। নতুন সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৩৭টি দেশে প্রবেশ করতে পারবেন।
সূচকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগাম ভিসা ছাড়া বাংলাদেশিরা যেসব দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন, তার মধ্যে রয়েছে—বাহামা, বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দ আইল্যান্ডস, কোমোরো আইল্যান্ডস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্তসেররাত, মোজাম্বিক, নেপাল, নুউয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, গাম্বিয়া, তিমুর, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই তালিকার কিছু দেশ ও অঞ্চলে অন-অ্যারাইভাল বা বিমানবন্দরে নামার পর ভিসা সুবিধা প্রযোজ্য। এছাড়া, কয়েকটি দেশের জন্য ই-ভিসা গ্রহণ করতে হতে পারে। এই সুবিধার ফলে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করতে পারবে।
হেনলি পাসপোর্ট সূচকের প্রতিবেদনে এশিয়ায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তৃতীয় অবস্থান ভাগাভাগি করেছে সুইডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন এবং সুইজারল্যান্ড। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল। ষষ্ঠ অবস্থানে অবস্থান করছে হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া।
বাংলাদেশের পাসপোর্টের সামান্য উন্নতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সুযোগ বৃদ্ধি করলেও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর তুলনায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের দেশ সংখ্যা বৃদ্ধি, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই সূচক প্রতি বছর হালনাগাদ করা হয় এবং এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের শক্তি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সক্ষমতা মূল্যায়ন করে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা সহজে জানতে পারেন, কোন দেশের পাসপোর্টে কোন দেশে ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতি পর্যটন, ব্যবসা ও শিক্ষাগত ভ্রমণে সুবিধা প্রদান করতে পারে।


