বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। সোমবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাক্ষাতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী একটি সংকটময় সময়ে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে অভিনন্দন জানান। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শেরিং তোবগে ঢাকা সফরে আসেন। সোমবার সকালে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম. তৌহিদ হোসেন তাকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ ও ভুটান দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ভুটান ছিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দেশগুলোর একটি। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি সেই সময় থেকেই দৃঢ় হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে জলবিদ্যুৎ, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কানেক্টিভিটি সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। ভুটানের জলবিদ্যুৎ খাত দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানির বিকল্প উৎস হিসেবে ভুটানের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া সড়ক ও নৌপথ যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোটর ভেহিকেল চুক্তি এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভুটান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উচ্চপর্যায়ের এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
সাক্ষাৎ শেষে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সমন্বিত অবস্থান জোরদারে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরসূচিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়াও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও সৌজন্য কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


