ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ

জাতীয়  ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই দিনে সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৩০০ আসনের মধ্যে দুইটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনের নির্বাচন বাতিল হয়েছে। অবশিষ্ট ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন লাভ করে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে বিজয়ী হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়লাভ করেন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় দলটি সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার লাভ করে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক সক্রিয়তা মূলত ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে দৃশ্যমান হয়, যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করে। যদিও সে সময় তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি, ২০০২ সালের ২২ জুন বিএনপির গঠনতন্ত্রে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ সৃষ্টি করে তাকে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি দলের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং তিনি প্রায় ১৮ মাস কারাবরণ করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মামলায় আদালতের রায়ে তিনি অব্যাহতি পাওয়ার পর দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং দলের কার্যক্রমে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে তিনি দলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

তারেক রহমানের মা ও বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার বিষয়টি তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।

এই নির্বাচনে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সরাসরি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি দুটি আসন থেকে প্রার্থী হন এবং উভয় আসনেই বিজয়ী হন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করতে সক্ষম হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংসদে বিরোধী দলগুলোর কার্যকর ভূমিকা ও গণতান্ত্রিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব বণ্টন এবং সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার ঘোষণা করা হতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ