আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর ধানমন্ডিতে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি বাচ্চু মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাওহীদা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডির লোবেলিয়া হাউজ নামের একটি ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে আফরোজা বেগম (৬৫) ও তার গৃহকর্মী দিতির (১৮) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আফরোজা বেগম শিল্পপতি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি ছিলেন। ঘটনাস্থলে দুজনের গলা কাটা অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হয়।
নিহত আফরোজা বেগম ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। তার বিপরীত পাশের ফ্ল্যাট ও ঠিক ওপরের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাট নিয়ে ডুপ্লেক্স বাসায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা। ঘটনার রাতে মায়ের ফ্ল্যাটে যোগাযোগ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ হলে পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন দিলরুবা সুলতানা রুবা। মামলার তদন্তভার প্রথমে পুলিশ এবং পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গ্রহণ করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পিবিআই দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
একই বছরের ১১ অক্টোবর আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ২৩ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য, আলামত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সুরভী আক্তার নাহিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। অপরদিকে বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ে আদালত বলেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল নৃশংস ও পরিকল্পিত। ভুক্তভোগীদের ওপর ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং ঘটনাটি আবাসিক এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আদালত ফৌজদারি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় সুরভী আক্তার নাহিদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তা হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে নিম্ন আদালতের এ রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ আদালতে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে। একই সঙ্গে দণ্ডিত আসামির উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আলোচিত এ মামলায় তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলে। ঘটনার সময় নিহতদের সঙ্গে গৃহস্থালির কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পায়। আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে রায় প্রদান করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর আগে সংঘটিত দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নিম্ন আদালতে সমাপ্ত হলো। তবে উচ্চ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর চূড়ান্ত আইনি অবস্থান নির্ভর করবে।


