শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে একই দিন বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার কাঠামো পূর্ণতা পেয়েছে। সাধারণত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর সুপারিশে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কার্যকর হয়।
মন্ত্রিসভার আকার ও গঠন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। পূর্ণমন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে নীতিনির্ধারণ, বাস্তবায়ন তদারকি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিমন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সহায়ক হিসেবে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করেন এবং নীতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে কাজ করে এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কর্মকাণ্ড সমন্বয় করে থাকে। বাজেট প্রণয়ন, আইন প্রস্তাব অনুমোদন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা এবং গঠন সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রশাসনিক দক্ষতা, সমন্বয় এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা নতুন মন্ত্রিসভার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন খাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। দপ্তর বণ্টনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে।
শপথ গ্রহণ ও প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এখন প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং ঘোষিত নীতিমালা কার্যকর করার মাধ্যমে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।


