জাতীয় ডেস্ক
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে দেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলা ১১টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। নতুন মন্ত্রিসভা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, নির্বাচন-ব্যবস্থা, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ওপর সরকারের নজর রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তৃণমূল নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেছেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যা সমাধান করাই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দলীয় নেতৃত্ব ও তৃণমূলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে নীতি কার্যকর হবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
খুলনায় বিএনপি নেতারা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও পর্যটন বিকাশে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সাবেক খুলনা মহানগর বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, খুলনায় শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উপকূলীয় বেড়িবাঁধ টেকসই করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, গ্রামাঞ্চলে সুপেয় পানি, সড়ক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল আধুনিকীকরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণে সরকারের পদক্ষেপ জরুরি। খুলনা বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান মিল্টন উল্লেখ করেন, বেকার যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মিল-কারখানা পুনরায় চালু করা এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূলের ওপর সরকারের বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সারোয়ার উদ্দিন সেলিম মনে করেন, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে।
ময়মনসিংহে বিএনপি নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার গুরুত্বারোপ করেছেন। ময়মনসিংহ মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হান্নান খান উল্লেখ করেছেন, সরকারের নেতৃত্বে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য তৃণমূল ঐক্যবদ্ধভাবে সহায়তা করবে।
সিলেট ও কুমিল্লা অঞ্চলের নেতারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধ নির্মূলের জন্য সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করার প্রতি জোর দিয়েছেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নতুন সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও দীর্ঘদিনের অধিকার বঞ্চনা দূরীকরণের কাজ করবে। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সি আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার শাসনব্যবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
রাজশাহীর পবা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা বিএনপির সদস্য শেখ মকবুল হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব কমানো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ সহায়তায় সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
নতুন সরকার দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন এবং প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।


