রমজানে নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য সুলভ মূল্যে প্রোটিন সামগ্রী বিতরণ শুরু

রমজানে নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য সুলভ মূল্যে প্রোটিন সামগ্রী বিতরণ শুরু

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, রমজান মাসে দেশের প্রায় ১০ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুলভ মূল্যে প্রোটিনের চাহিদা পূরণের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে তিনি সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয়ের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এবার রাজধানীর উত্তরা, আজিমপুর, মিরপুরসহ মোট ২৫টি স্পটে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি রমজান মাস জুড়েই এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দেশটির অন্যান্য জেলাতেও ধাপে ধাপে এই উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রতি ডজন ডিম ৯৬ টাকায়, ১ কেজি দুধ ৮০ টাকায় এবং ১ কেজি মাংস ৬৫০ টাকায় সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সুলভ মূল্যে এই প্রোটিন সামগ্রী সরবরাহের ফলে বাজারে এসব পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রীর ব্যয় কমে আসবে।

এ উদ্যোগের পেছনে সরকারের লক্ষ্য হলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রণালীর আওতায় দরিদ্র পরিবারের প্রোটিন গ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা কমানো। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে সমর্থন দেবে এবং স্থানীয় বাজারে প্রোটিনজাত পণ্যের সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর রমজান মাসে দেশের নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণে অপ্রতুল থাকে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরকার চাচ্ছে বাজারভিত্তিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সমাজের সংবেদনশীল অংশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী পরিবারদের নিবন্ধন এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে। বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ক্রেতাদের সঠিকভাবে প্রোটিনজাত সামগ্রী পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তদারকি করছেন।

উদ্যোগটি স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, এই কার্যক্রম দেশের অন্যান্য জেলাতেও সম্প্রসারিত হলে আরও বেশি পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ