আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান সতর্ক করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হুমকিকে বাস্তবে রূপ দেয় বা কোনো হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সতর্কবার্তা জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রদান করেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মন্তব্য আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। রাষ্ট্রদূত ইরাভানি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ধরনের বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করছে। এর পরিণাম পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।”
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি ইরানকে চুক্তিতে অনাগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপসহ যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে হতে পারে। ইরাভানি এ ধরনের মন্তব্যকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যাতে অবিলম্বে বলপ্রয়োগের এই বেআইনি হুমকি বন্ধ করে তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখনও কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাসী এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অস্পষ্টতা দূর করতে পারস্পরিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে তারা সতর্ক করেছেন, কোনো সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হলে আত্মরক্ষামূলক জবাব হিসেবে অঞ্চলজুড়ে শত্রু বাহিনীর সব ঘাঁটি ও স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক মোতায়েন বৃদ্ধির পেছনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন এবং বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরানের হাতে বড়জোর ১৫ দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র হামলার পথ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত মঙ্গলবার জেনেভায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় ইরানি কূটনীতিকের পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে পারস্পরিক সমঝোতার অগ্রগতির কথাও জানানো হয়েছিল।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, গত বছরের জুনে ইসরাইলের অতর্কিত হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ওই সময় ওয়াশিংটনও স্বল্প সময়ের জন্য অংশগ্রহণ করেছিল। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ইরানের সতর্কতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে বিষয়টি তোলা হলে, সেখানে মার্কিন ভেটো ক্ষমতার কারণে প্রভাবিত কোনো সমাধান দ্রুত অর্জন করা সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


