বাংলাদেশ ডেস্ক
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন, খাল খননের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কেবিনেট মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচনা করেছেন এবং মন্ত্রীদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখা, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং এলাকার অব্যাহত উন্নয়ন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে, সেসব স্থানে পর্যায়ক্রমে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশেষভাবে লক্ষ্মীপুরের ভূলুয়া নদী ও রহমতখালী খাল খনন কার্যক্রমের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া তিনি এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য পূর্বে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নের বিষয়েও আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান এবং পুলিশ সুপার আবু তারেকের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। পরে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খিসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মেজবা উল আলম ভূইয়া, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপী, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান এবং জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর আহমদ ফেরদৌস মানিক।
পানি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দেশের খাল খনন কার্যক্রম প্রধানত নদী ভাঙন প্রতিরোধ, স্থানীয় জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং কৃষি ও নগর এলাকার পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা উন্নত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসকরা জানান, খাল খনন ও নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পগুলি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ের শ্রমসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার মৌসুমী বন্যার প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এমন প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর উদ্যোগ দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। খাল খনন এবং নদী ভাঙন রোধ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।


