রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা এক মিনিটে নগরীর রাজারহাতা এলাকায় রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার মিনারের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এবং জেলা ও শহরের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর শহিদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। রাতের অনুষ্ঠান চলাকালে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উত্থাপন করে আসছিল। এই প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট নগরীর নওদাপাড়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর রাজারহাতায় প্রায় এক বিঘা জমি খালি হয়, যা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
যদিও নির্মাণকাজের প্রথম দিকে জেলা পরিষদ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মধ্যে মালিকানা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু সময় প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছিল, পরে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে কাজ পুনরায় শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মিনারটি এখন রাজশাহীর নতুন প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং ভাষাসহ সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করাই এই শহিদ মিনারের মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, এটি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, যা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।
উদ্বোধনের পর একুশের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে শহিদ মিনারে ফুল দেন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গান পরিবেশনার মাধ্যমে প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। রাজশাহীবাসী দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশা করছেন, এটি শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ ও প্রজন্মের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
নতুন শহিদ মিনারের মাধ্যমে শহরের জনগণ একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাসের সঙ্গে আরও সখ্যতা গড়ে তুলতে পারবে এবং আগামী প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থল হিসেবে এটি পরিচিতি পাবে।


