আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে নিজস্ব ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছেন, তবুও একই মঞ্চে তিনি ইরানকে সম্ভাব্য সামরিক হুমকি দেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রাচ্য জোটের সভায় ট্রাম্পের এই ঘোষণার মাধ্যমে তার দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির এক জটিল দ্বন্দ্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান—এই দ্বিমুখী অবস্থান ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সংখ্যালঘু সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে নতুন চুক্তির পক্ষপাতী এবং কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য দিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ আয়োজন করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প তার সমর্থকদের ধারণার চেয়ে বেশি সামরিক শক্তি প্রয়োগে আগ্রহী, যা অনেক ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার চেষ্টা ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অদম্য ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে তার লক্ষ্য এতটা স্পষ্ট নয়। জুন ২০২৫ সালে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও, এখন কেন হামলার প্রয়োজন বা নতুন লক্ষ্যবস্তু কী, তা স্পষ্ট করেননি। এছাড়া এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানে শাসন পরিবর্তন করতে চাইছেন, নাকি আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে চাইছেন—এ বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ দেবেন। সেখানে তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে, এই সম্ভাব্য যুদ্ধ তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইরানসহ একাধিক সামরিক অভিযানের ফলে তার সমর্থকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, বিশেষত অভিবাসন ও অর্থনীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ভোটারদের মধ্যে।
ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের আকাঙ্ক্ষা এই দ্বৈত নীতি আরও স্পষ্ট করে। তিনি দাবি করেছেন, আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে তিনি এই পুরস্কারের যোগ্য। কিন্তু একদিকে শান্তির প্রচারণা চালানো এবং অন্যদিকে সামরিক হুমকি প্রদানের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অনুমান করা হচ্ছে, সম্ভাব্য হামলায় ইসরায়েল সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে গাজা পুনর্গঠন বা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতায় এই যুদ্ধের প্রভাব কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্ব সম্প্রদায় ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, একটি অর্থবহ চুক্তি না হলে খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অপেক্ষা করছেন, ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগতভাবে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এই অবস্থার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক এবং কূটনৈতিক সঙ্কটের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।


