মালদ্বীপে ল্যান্ডফিল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু, শ্রীলঙ্কান নাগরিকের রিমান্ড বৃদ্ধি

মালদ্বীপে ল্যান্ডফিল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু, শ্রীলঙ্কান নাগরিকের রিমান্ড বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মালদ্বীপের থিলাফুশি আইল্যান্ডে ল্যান্ডফিলে কর্মরত অবস্থায় ২৪ বছর বয়সি প্রবাসী বাংলাদেশি আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় খননকারী যন্ত্রের (এক্সক্যাভেটর) অপঠিত ব্যবহারের দায়ে শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়েকে মেনিকার ১০ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর আরও ৪৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন স্থানীয় আদালত।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হেশান মাদুরাঙ্গাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি বিবেচনা করে এই রিমান্ড বৃদ্ধি করেন। তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, খননকারী যন্ত্রটি হেশান পরিচালনা করছিলেন, যার আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি থিলাফুশি আইল্যান্ডের ল্যান্ডফিলে আমিন মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত আমিন মিয়া মালদ্বীপের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনে (ওয়ামকো) ছয় মাস ধরে কর্মরত ছিলেন। দুদিন ধরে তিনি কর্মস্থল থেকে নিখোঁজ ছিলেন এবং ২৮ জানুয়ারি রাতে থিলাফুশি আইল্যান্ডের ময়লার স্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, খননকারী যন্ত্রটি বন্ধ না করে চালানো হচ্ছিল এবং তার আঘাতে আমিন মিয়ার মাথায় একাধিক আঘাত হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, যন্ত্রটি ভুলভাবে পরিচালিত হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। হেশানের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, হেশান একই প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে কর্মরত ছিলেন। যে দিন আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে, সেই দিনই তিনি মালদ্বীপ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। এই ঘটনার কারণে মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

মালদ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ল্যান্ডফিল ও পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট না থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ, যন্ত্র ব্যবহারের নিয়মকানুন এবং নিরাপত্তা মান বজায় রাখা না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্থানীয় প্রশাসন হেশানের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে মূল ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সচেষ্ট। এই ঘটনার পর প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে কাজের নিরাপত্তা এবং শ্রম আইনের প্রয়োগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনা বেড়েছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যথাযথ প্রশিক্ষণ, যন্ত্র চালনার নিয়মাবলী, এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অদ্যাপি স্থানীয় আদালত ও প্রশাসন এই হত্যার অভিযোগসহ অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত দায়ী চিহ্নিত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে উদ্যোগী রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ