শিক্ষা ডেস্ক
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশের শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। তিনি এই মন্তব্য করেন গতকাল শনিবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি বাঙালির মৌলিক অধিকার আদায়ের প্রতীক। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালির ইতিহাসে অসংখ্য ত্যাগ এবং সংগ্রামের সাক্ষ্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যে কোনো জাতি অধিকার অর্জন করতে হলে সংগ্রাম এবং ত্যাগের প্রয়োজন হয়।
শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা রাষ্ট্রগঠনের মূল ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই শিক্ষার অবকাঠামো মজবুত করা সবার দায়িত্ব। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য তিনি তিনটি মূল বিষয় উল্লেখ করেন—কারিকুলাম, ক্লাসরুম এবং সামঞ্জস্য (Consistency)। ববি হাজ্জাজ বলেন, পাঠ্যক্রম আধুনিক ও প্রাসঙ্গিক হতে হবে, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে, এবং সারা দেশে শিক্ষার মানে সমতা থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল দপ্তরে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা অপরিহার্য। দেশপ্রেম শুধুমাত্র আন্দোলনে নয়, কর্মক্ষেত্রেও প্রমাণ করতে হবে। মানসম্মত, দুর্নীতিমুক্ত এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ এবং দেশের শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
此次 সভা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য ও শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে সরকারের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত ও সমতা-সম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


