স্বর্ণ-রুপার বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ, এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের সমন্বয়

স্বর্ণ-রুপার বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ, এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের সমন্বয়

 

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনঃসমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ভরিতে স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

বাজুস জানায়, এই দাম সমন্বয় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ পূর্বের সমন্বয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এই সময়ে ১৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, বাকি ১২ বার কমানো হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

রূপার বাজারেও সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৪১৫ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায়।

চলতি বছর রুপার দাম ১৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৭ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার বাজারে ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩ বার কমানো হয়েছিল।

বাজুসের এই সমন্বয় বাজারে স্বর্ণ ও রুপার সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক ধাতব বাজারের প্রভাব এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বর্ণ ও রুপার দাম বৃদ্ধির ফলে গহনার খাতে ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এই ধাতু ক্রয়-বিক্রয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ব্যয়ও কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।

দেশে স্বর্ণ ও রুপার বাজারের নিয়মিত সমন্বয় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য দাম সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বাজুসের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্রেতারা বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিনিয়োগ বা ক্রয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ