সংস্কৃতি ডেস্ক
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন এবং একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকালে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেলের দিকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করবেন তিনি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন। তিনি বলেন, “২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে পদক প্রদান করা হবে। একই দিন বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন করা হবে।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই দুইটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা, পারিপার্শ্বিক ব্যবস্থা এবং অতিথি সম্ভার সংক্রান্ত সব আয়োজন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হয়েছে। প্রকাশকরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে বইমেলায় অংশগ্রহণকারীদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের পাঠকসমাজকে সমৃদ্ধ সাহিত্য ও গবেষণামূলক প্রকাশনার সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মত প্রকাশ করছেন প্রকাশকরা।
প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আয়োজন করা অমর একুশে বইমেলা বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বইমেলায় স্বল্প ও বৃহৎ সকল ধরনের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রচেষ্টার মাধ্যমে মেলার মাধ্যমে পাঠক ও লেখকরা সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।
উল্লেখ্য, একুশে পদক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও সামাজিক অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি প্রদত্ত সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বা তার আশেপাশে এই পদক বিতরণ করা হয়। এবারের পদকপ্রাপ্তরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন সাহিত্য, সংস্কৃতি, গবেষণা, বিজ্ঞান ও সমাজসেবা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
বইমেলা ও পদক প্রদান অনুষ্ঠান দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


