ক্রীড়া প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পথে জেদ্দায় আটকা পড়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তবে রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে তিনি নিরাপদে বাংলাদেশগামী বিমানে আরোহন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি নিজেই।
মুশফিকুর রহিম সম্প্রতি ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থান করছিলেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুবাই হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল তার। এ লক্ষ্যে তিনি জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে Emirates-এর ইকে-০৮০৬ নম্বর ফ্লাইটে রওনা দেন। তবে আকাশপথে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে ফ্লাইটটি পুনরায় জেদ্দায় ফিরে আসে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ইরানে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি দেশের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে এবং কিছু রুটে উড়োজাহাজ চলাচল সীমিত করা হয়। এই প্রেক্ষাপটেই মুশফিকের ফ্লাইটটি নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে না পেরে ফিরে আসে বলে জানা গেছে।
জেদ্দায় অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মুশফিকুর রহিম জানান, ওমরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটটি ফিরে আসায় তিনি জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন। সেখানে তার সঙ্গে আরও বহু যাত্রী আটকে ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশিও ছিলেন।
পরবর্তী এক বার্তায় তিনি জানান, রোববার দিবাগত রাতে নিরাপদে বিমানে উঠতে পেরেছেন এবং সোমবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং দোয়া করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক রোববার জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, তিনি নিরাপদেই দেশে ফিরবেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং খেলোয়াড়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের জাতীয় দলের একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এবং সাবেক অধিনায়ক। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। জাতীয় দলের চলমান ও আসন্ন কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে তার সময়মতো দেশে ফেরা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও ভ্রমণ ব্যবস্থায়ও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলছে। আকাশসীমা বন্ধ বা সীমিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে সাময়িকভাবে ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মুশফিকুর রহিমের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় তার ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।


