বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দেশের নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক সমন্বয় থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণভাবে দেশে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগে বলে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তার বিপরীতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করে বাস্তব উদাহরণ স্থাপন করেছে।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। তার মতে, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্প্রসারণ করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, বর্তমান উদ্যোগগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে যাতে নাগরিকরা সরকারি সেবা পেতে প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি না হন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করার ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উদ্বোধনী দিনে চট্টগ্রামে মোট ৫ হাজার ৫৭৫টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত সুবিধাভোগীরা বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারের চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা, কৃষি উপকরণ সরবরাহ সহজ করা এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক কর্মসূচি বাস্তবায়ন। পাশাপাশি নারী নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম ও অন্যান্য সহায়ক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন অঞ্চলে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


