রাজনীতি ডেস্ক
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ মঙ্গলবার বলেছেন, সরকার আগামীর বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা পরিকল্পনার আলোকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, প্রধানমন্ত্রী সকল মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের বা ছয় মাসের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সড়ক পরিবহন ও রেলপথ খাতেও এই নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং নিজেদের দেশের প্রকৃত মালিক হিসেবে বিবেচনা করবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের কাজের মধ্যে মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত।
সড়ক পরিবহন খাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনামুক্ত ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভাঙার মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকৃত ও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়ক, রেল ও নৌপথের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, যেখানে সড়কপথে যাতায়াত সহজ, সেখানে সড়ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; যেখানে রেলপথ দ্রুত ও সুবিধাজনক, সেখানে রেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; এবং যেখানে বিকল্প নেই, সেখানে নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
ঢাকার বাসস্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কিছু বাসস্টেশন বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের বিষয়েও বিবেচনা চলছে। একই সঙ্গে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন বাস কোম্পানির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে এবং ছোট-বড় পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার কাজ চলছে। ব্যাটারিচালিত ছোট যানবাহনকেও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো যায় ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
বিআরটিসি বাস সেবা পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নারীদেরকে বিআরটিসি বাসচালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন ঈদযাত্রার প্রস্তুতি সম্পর্কেও প্রতিমন্ত্রী জানান, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সড়কের নির্মাণকাজের জন্য পড়ে থাকা মালামাল দ্রুত সরিয়ে দেওয়া এবং ভাঙাচোরা সড়ক অস্থায়ীভাবে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদারকি করবেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গার্মেন্টস খোলার কারণে ঈদযাত্রায় চাপ বৃদ্ধি পাবে, তবে সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে ছুটি প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে।


