আল্লাহর রহমতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আল্লাহর রহমতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী এলাকার কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে প্রতীকী বোতাম চাপ দিয়ে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নির্ধারিত ভাতা পৌঁছে দেওয়া হয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী এ কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে এর আওতা বাড়ানো হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে। পরে অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রতীকীভাবে ১৭ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সরকারের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মোট ১৪টি স্থানে প্রাথমিকভাবে এই পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোর নারী সদস্যদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, যা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ করায় সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ রাখা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন নারী তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি এলাকায় বসবাসকারী এসব নারী জানান, এ ধরনের সহায়তা তাদের পরিবারের ব্যয় নির্বাহে সহায়ক হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক নিরাপত্তা দেবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মূলত নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই কর্মসূচির বিস্তৃতি ঘটানো হবে এবং আরও বেশি পরিবারকে এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং ফ্যামিলি কার্ড তারই একটি অংশ।

এছাড়া তিনি কৃষকদের সহায়তায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের জন্য পৃথক ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ বিষয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সরকারের মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার হবে এবং নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতি উন্নত হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কর্মসূচি বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ