ইরাক প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রতি হামলার জন্য দেশের ভূমি ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা

ইরাক প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রতি হামলার জন্য দেশের ভূমি ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি বুধবার ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক অভিযানকে ‘অন্যায় যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এদিন তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। আল-সুদানি ফোনালাপে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরাক তার ভূখণ্ডকে কোনো পক্ষের ইরানের ওপর আক্রমণের সূচনাস্থল হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দেবে না।

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে উল্লেখ করেছেন, “ইরাককে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা দেশটির সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।” এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ইরাকের অবস্থান স্পষ্ট করে।

ইরাকের সরকারি সূত্রে জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের পর থেকেই দেশটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যে কোনো হামলা দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরাকের এই স্পষ্ট অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইরাক ভূখণ্ডের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে তা সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তি সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরাক ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও, দুই দেশের নেতারা বিভিন্ন সময়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। এই নতুন বিবৃতি সেই ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে, যেখানে ইরাক তার ভূখণ্ডকে কোনো তৃতীয় পক্ষের সামরিক কাজে ব্যবহার হতে দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমবর্ধমানভাবে উত্তেজনাপূর্ণ। ইরাকের এমন স্পষ্ট অবস্থান স্থানীয় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেন, ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত সামরিক সংঘাতে কোনো পক্ষকে সরাসরি সহায়তা প্রদান থেকে বিরত রাখবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও স্থায়ী নিরাপত্তা নীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে ইরাকের সরকার বারবার আঞ্চলিক সংঘাতের ফলে তার দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে প্রভাব পড়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। সাম্প্রতিক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী আল-সুদানি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ