জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণ করেন।
সকাল প্রায় সোয়া ১০টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং স্বাধীনতার জন্য তাদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বীর শহীদদের স্মরণে কিছু সময় নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা পালনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয় এবং তাদের অবদানের স্মৃতি স্মরণ করা হয়। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্মারক। প্রতি বছর জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এখানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে পালিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর পর নতুনভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের একটি প্রতীকী অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের স্মরণে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে, যা স্বাধীনতার ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।


