অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ অনলাইনে প্রকাশিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ১২ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর একটি নতুন লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। এই লাইসেন্সের আওতায় আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
এ সিদ্ধান্তের ঠিক এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। তেলের এই সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে ইউক্রেনে চলমান সংঘাতের জবাবে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্লোবাল তেলের চাহিদা ও সরবরাহের অস্থিতিশীলতা বিবেচনায় নেওয়া হয়ে এই সাময়িক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার তেল বাজারে আংশিক প্রবেশ নিশ্চিত করে এবং আন্তর্জাতিক তেল শুল্ক ও জাহাজ চলাচলে কিছুটা শিথিলতা প্রদান করবে।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বল্পমেয়াদী চাপ হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে, তেল শুল্ক ও পরিবহন খরচের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নির্ধারণ করতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। এছাড়া, মার্কিন রিজার্ভ থেকে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় তেলের বাজারেও সাময়িক স্থিতিশীলতা আসতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাইসেন্স ইস্যু এবং কৌশলগত রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত পূর্বের কঠোর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন নীতি কার্যকর রাখা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই সাময়িক ছাড়ের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কিছুটা হ্রাস পাবে, তবে ইউক্রেন সংঘাত ও গ্লোবাল জ্বালানি চাহিদার অস্থিরতা প্রভাবিত করতে পারে। তাই, আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজার পরিস্থিতি ও লাইসেন্স কার্যকারিতা মনিটর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।


