বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ভিজুয়াল ও প্রযোজনাগত মান বৃদ্ধির এক নতুন ধাপ হিসেবে রেদওয়ান রনির পরিচালিত সিনেমা ‘দম’ দর্শকদের সামনে এসেছে। ২০১২ সালের ‘চোরাবালি’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা রনির নতুন এই সিনেমা বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি আফগানিস্তানে বাংলাদেশের একজন এনজিও কর্মীর অপহরণ ও মুক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
সিনেমার গল্প একটি সত্য ঘটনাকে আকাশীয়ভাবে উপস্থাপন করে। পরিচালক রেদওয়ান রনি এবং তার টিম বছরের পর বছর ধরে পাণ্ডুলিপি ও চিত্রনাট্য তৈরির মাধ্যমে সিনেমাটিকে বাস্তবসম্মত এবং সমৃদ্ধ করেছেন। সিনেমার প্রধান চরিত্র আফরান নিশো একজন বাংলাদেশি এনজিও কর্মী হিসেবে দেখানো হয়েছে, যিনি অপহৃত হন এবং বিপদসংকুল পরিস্থিতিতে টিকে থাকা ও মুক্তির লড়াই করেন। নিশেয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, যিনি তার অভিনয়কে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করেছেন।
সিনেমার ভিজুয়াল দিক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আফগানিস্তানের বিস্তৃত মরুভূমি, পাহাড়, ঝরনা ও গ্রামের চিত্রায়ন কাজাখস্তানে শুটিং করা হলেও দর্শকের চোখে এটি বাস্তবের মতো অনুভূত হয়। সিনেমার দৃশ্য, কস্টিউম ও পরিবেশ এমনভাবে তৈরি হয়েছে যা সাধারণত বাংলাদেশের সিনেমায় দেখা যায় না। এ ক্ষেত্রে সিনেমাটোগ্রাফি বিশ্বমানের ধারা অবলম্বন করেছে।
‘দম’ কেবল কাহিনিকেই কেন্দ্র করে রাখেনি, পাশাপাশি গল্পের মধ্যে বিভিন্ন উপকাহিনি ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র যুক্ত করা হয়েছে। পূজা চেরী রানি চরিত্রে, চঞ্চল চৌধুরী সহ অন্যান্য অভিনেতারা সিনেমার গল্পকে সমৃদ্ধ করেছেন। সিনেমার বিভিন্ন সংলাপ এবং দৃশ্যগুলো মানবিক সহানুভূতি, দেশপ্রেম এবং মানসিক টানাপোড়েনের সঙ্গে সংযুক্ত। উল্লেখযোগ্য একটি দৃশ্যে নূর চরিত্র গাধার পিঠে তুলে নিয়ে যায়, যেখানে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবিক আবেগ ফুটে ওঠে।
সিনেমার প্লট এবং বাস্তবধর্মী সংলাপের সঙ্গে দর্শক সম্পৃক্ত থাকে, যা দর্শকদের কেবল বিনোদন দেয় না, বরং আবেগ, সহানুভূতি ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মানসিকভাবে সংযুক্ত রাখে। এটি কোনো ফেস্টিভ্যাল বা বিকল্পধারার সিনেমা নয়, বরং মূলধারার সিনেমা হিসেবে দর্শকের জন্য তৈরি।
রেদওয়ান রনি এই সিনেমায় পরিচালনাগত কঠোর পরীক্ষা অতিক্রম করেছেন। তার অভিজ্ঞতা এবং পরিকল্পিত নির্মাণ প্রক্রিয়া সিনেমাটিকে উচ্চ মানের ভিজুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে। চলচ্চিত্রটি দর্শকদের শুধু কাহিনি দেখার সুযোগ দেয়নি, বরং সিনেমাটির মাধ্যমে বাংলাদেশি সিনেমাকে বিশ্বসিনেমার মানদণ্ডে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
‘দম’ সিনেমা বাংলাদেশের সিনেমায় ভিজুয়াল মান, কাহিনির বাস্তবতা এবং চরিত্রায়নের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সিনেমার সমালোচক এবং দর্শকরা একমত যে এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে একটি বিশ্বমানের স্তরে উন্নীত করেছে। আফরান নিশেয়ার অভিনয়, পূজা চেরী ও অন্যান্য চরিত্রের পারফরম্যান্স এবং রনির পরিচালনায় সিনেমাটির একটি শক্তিশালী মান তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।


