বাংলাদেশ ডেস্ক
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা এবং উন্নয়নমুখী সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার ঢাকায় জাপান দূতাবাসে দেশটির জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাপানের সম্রাটের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যেখানে কূটনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
মন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যৌথ শান্তি, সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জাপানের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি খাত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে জাপানের সহায়তা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ ও সহায়তা দিয়ে আসছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাজার সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের মানবিক সহায়তা প্রশংসনীয়। তিনি এই সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য জাপানের গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সকল স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এসব উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিশন প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


