বাংলাদেশ ডেস্ক
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের মধু আহরণ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টায় শ্যামনগরের ৭১ নং বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে মৌসুমের সূচনা করেন। উদ্বোধনের আগে প্রতিমন্ত্রী সুন্দরবনের বনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের মধু আহরণ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জীবিকাসাধনের উৎস। তিনি জোর দেন, মধু আহরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের ভেজাল বা অনৈতিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাবে না। তিনি বনজীবীদের সতর্ক করেন, নিজেদের এবং পরিবারের স্বার্থে স্বাস্থ্যসম্মত এবং সৎভাবে মধু আহরণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার বনজীবীদের নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বন বিভাগকে নির্দেশ দেন, মৌয়ালদের সুবিধার্থে নিয়মিত তদারকি এবং সহায়তা প্রদান করতে। এতে সুন্দরবনের সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দুটোই নিশ্চিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল এমপি, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, এবং স্থানীয় বনজীবীরা। এছাড়া জেলা বিএনপির কিছু নেতাকর্মীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী এবং অন্যান্য অতিথির উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই পারমিটধারী মৌয়ালরা সুন্দরবনের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন। সরকারি তত্ত্বাবধানে এই মৌসুম চলাকালীন বনজীবীরা নিয়মিত তদারকি ও সহায়তা পাবেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানের পরে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদরের কুমড়ার খাল খননে অংশগ্রহণ করেন, যা স্থানীয় জলবায়ু ও পানি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। এই খনন প্রকল্প এলাকার জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সুন্দরবনের মধু আহরণ মৌসুম প্রতি বছর স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। বন বিভাগের মতে, সঠিক তদারকি ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমে মধু আহরণ স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং বনজীবের জীবিকা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।


