বাংলাদেশ–আমিরাত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা হস্তান্তর

বাংলাদেশ–আমিরাত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা হস্তান্তর

 

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে একটি বিশেষ লিখিত বার্তা পাঠিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। বার্তায় দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বুধবার আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত একটি কূটনৈতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এই বার্তাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের হাতে তুলে দেন।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি দল বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং পরস্পরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষভাবে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের জন্য একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। আমরা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ও অবকাঠামো মন্ত্রী সুহাইল বিন মোহাম্মদ আল মাজরুই, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ এবং উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। আলোচনা চলাকালে ব্যবসা, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রগুলোতেও বিনিময় মন্তব্য হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উচ্চস্তরের কূটনৈতিক হস্তান্তর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা দেবে। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ইতিমধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য ও মানবসম্পদসহ বিভিন্ন খাতে গঠনমূলক সহযোগিতা বিদ্যমান, যা এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হবে।

উভয় দেশই উল্লেখ করেছে যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে চলমান জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা করা অপরিহার্য। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তায় এই প্রেক্ষাপটেও দুই দেশের সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সহমত দৃঢ় করার প্রয়াস প্রতিফলিত হয়েছে।

এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ বাংলাদেশের বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতি শক্তিশালী করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ