স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমে পূর্ববর্তী সময়ে যথাযথ গুরুত্বের ঘাটতি ছিল বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ব্যর্থতা কিংবা অন্যান্য কারণে এ বিষয়ে প্রচারণা ও নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং হামজনিত শিশুমৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাম ও রুবেলা সংক্রামক রোগ হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে, যাতে রোগের বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এ জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি দেশের সব জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
কক্সবাজার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুটি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় টিকা, সরঞ্জাম এবং জনবল নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অপরদিকে রুবেলা গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এই দুটি রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত ও ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি অপরিহার্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, হাম-রুবেলা নির্মূলে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশে অতীতে টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় টিকার কভারেজ কমে যাওয়ার কারণে পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও এ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিভাবকদের সন্তানদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, সরকারি উদ্যোগ, স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে চলমান এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।


